নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে রমরমিয়ে চলল রায়ডাক ও হাতিপোঁতার সাপ্তাহিক হাট

বাবুল সরকার, কামাখ্যাগুড়ি, ৯ মেঃ রাজ্য সরকারের আংশিক লকডাউনের নির্দেশকে আমান্য করে কোথাও দিনভর, আবার কোথাও বিকেল পর্যন্ত খোলা রইল সাপ্তাহিক হাট। রবিবার কুমারগ্রাম ব্লকের রায়ডাক ও হাতিপোঁতা হাটে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ল। দু’টি হাটেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে।

রায়ডাক হাটে রায়ডাক ও কার্তিকা চা-বাগানের বাসিন্দারা ছাড়াও খোয়ারডাঙা, মারাখাতার মতো বিভিন্ন এলাকার মানুষ নির্ভরশীল।

অন্যদিকে, হাতিপোঁতা হাটের উপর তুরতুরি, জয়ন্তী, রহিমাবাদ, চুনিয়াঝোরা, ফাঁসখাওয়া সহ বেশ কয়েকটি চা-বাগানের বাসিন্দারা নির্ভরশীল। সপ্তাহে একদিন রবিবার দু’টি স্থানেই হাট বসে। সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এদিন রমরমিয়ে চলল হাট দু’টি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৩০ এপ্রিল রাজ্য সরকারের তরফে জারি করা এক নির্দেশিকায় হাট-বাজার খোলার সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়।

সকাল ৭ টা থেকে সকাল ১০ টা এবং বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৫ টা পর্যন্ত হাট-বাজার খোলা রাখার কথা ঘোষণা করা হয়। ১ মে থেকে লাগু হয় ওই নির্দেশিকা। এরপর গত ৫ মে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়ে ওই নির্দেশিকা কিছুটা বদল ঘটিয়েছেন।

বিকেল ৩টার বদলে সন্ধ্যা ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ পর্যন্ত ব্যবসা-বাণিজ্য করা যাবে বলে সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু প্রত্যন্ত চা বলয়ে এই নির্দেশিকা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। রবিবার কুমারগ্রাম ব্লকের রায়ডাক হাট বিকেল পর্যন্ত খোলা ছিল। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে ঠাসা হাটে করোনা বিধি অমান্য করেই চলল ব্যবসা-বাণিজ্য। এমনকি অনেক ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে ছিল না মাস্ক।

রায়ডাক চা-বাগান কর্তৃপখ্ষের তরফে বাগানের কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছিল হাট দেখভালের জন্য। বিকেল ৩টার দিকেও বাগানের কর্মীরা ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধের কথা বললেও সেই নিষেধ অমান্য করেই দোকানদারি করে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, ভারত-ভুটান সীমান্তের হাঁতিপোতার সাপ্তাহিক হাট রবিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে দিনভর চলে।

করোনা বিধি মেনে ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য বারবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করা হলেও, তা যে কোনো কাজেই আসছে না, রায়ডাক ও হাতিপোঁতা সাপ্তাহিক হাট তারই প্রমাণ। হাতিপোঁতা বাজারের মধ্যেই অবস্থিত শামুকতলা থানার অন্তর্গত হাতিপোঁতা পুলিশ ক্যাম্প। তাই বিষয়টি যে পুলিশ ও প্রশাসনের অজানা তা কিন্তু নয়। এই বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিষয়টি নিয়ে কুমারগ্রাম ব্লকের বিডিও মিহির কর্মকার জানিয়েছেন, রায়ডাক ও হাতিপোঁতা হাট দু’টি যেন নিয়ম মেনে করা হয়, সেটা আগেই বলা হয়েছিল। তরপরেও যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *