বন্ধ রেলের চাকা, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হকার ও গ্রাম থেকে শহরে আসা শ্রমিকরা

নিউজ দুনিয়া ২৪,ওয়েব ডেস্ক : ফের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি ওঁরা। কে এই ওঁরা। ওঁরা হল রেলের হকাররা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাঁরা লোকাল ট্রেনের কামরায় ফেরি করে বেড়ায়। বৃহস্পতিবার থেকেই ওঁদের রোজগার বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে। কারণ, করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে বৃহস্পতিবার থেকেই বন্ধ রাখা হবে লোকাল ট্রেন। কিন্তু এঁরা কীভাবে রোজগাড় করবেন, প্রতিদিনের বেঁচে থাকার রসদ আসবে কীভাবে? ‘

এবার সত্যিই আমরা মরে যাব। আর উপায় নেই। হকারি করে যেটুকু আমরা জমাতে পেরেছিলাম তা সবই গতবারের লকডাউনে শেষ হয়ে গেছে। ট্রেন ফের চালু হওয়ার পর টুকটুক করে হকারি করে দিন চালাচ্ছিলাম। এবার আর হাতে কিছুই নেই। ফলে জানিনা আগামীদিনে কপালে কী আছে।’

বলছিলেন রেলওয়ে হকার্স কংগ্রেস, হাওড়া স্টেশন প্ল্যাটফর্মের সম্পাদক সুরজকুমার সোনকার। সুরজের হিসেবে শুধু হাওড়া লাইনেই ট্রেন এবং প্ল্যাটফর্মে ফেরি করেন সাড়ে চার হাজারের কাছাকাছি হকার। শিয়ালদা লাইনে এই সংখ্যাটা আরও বেশি। প্রায় সকলেরই পরিবার আছে। ফলে হকারদের সঙ্গে তাঁদের পরিবারও ঘোর সমস্যার মুখোমুখি। আর শুধু ট্রেনের হকার নয়, স্টেশনে স্টেশনে যে সমস্ত ছোট ছোট দোকানদার আছেন রেলের চাকা বন্ধ হওয়াতে অসুবিধার মুখোমুখি হবেন তাঁরাও।

অসুবিধায় পড়বেন ট্রেনে চেপে গ্রাম থেকে শহরে আসা বিভিন্ন পেশার শ্রমিকরা। রেলের ওপর নির্ভর করে থাকা অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের সঙ্গে অসুবিধায় পড়বেন রিক্সাচালক থেকে ভ্যানচালক ও টোটোচালকরাও।

এবিষয়ে রাজ্য সরকার কী ভাবছে তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সরকার নিশ্চয় কিছু ভাববে।


কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে সংক্রমণ রুখতে চরম পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। সময়মতো কেন্দ্রীয় সরকার যদি সতর্ক হত তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না। দেশের প্রধানমন্ত্রীর অবৈজ্ঞানিক আচরণ আজকে দেশকে এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

শপথ নেওয়ার পরেই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি করোনা মোকাবিলায় বৈঠক করেছেন এবং বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে নিয়ন্ত্রণগুলো আনা হচ্ছে সেগুলো বাধ্য হয়েই আনা হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *